৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬:০১

স্বামীর বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে এসপিকে ঘুষ, স্ত্রীসহ আটক ২

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৮ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দিতে গিয়ে এক নারীসহ দুজন আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া থানায় তাদের আটক করা হয়।আটক মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও স্থানীয় চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী। অন্যদিকে জেসমিন আক্তার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত তাহির আলীর মেয়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। স্বামীকে হয়রানি করতে ইতোপূর্বে তার মেয়েকে মাহতাব ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন জেসমিন। এছাড়াও নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। বর্তমানে তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার খবর শুনে তা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে থানায় যান।

ওইসময় থানায় চলছিল সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন। পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জেসমিন তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে সামাদসহ এসপির সঙ্গে দেখা করেন। এরমধ্যে কৌশলে জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলেন সামাদ চৌধুরী। পরে অবশিষ্ট ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান। এতেই ঘটে বিপত্তি, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশেই সামাদ ও জেসমিনকে টাকাসহ আটক করে পুলিশ।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামে এক মহিলা বেশ কয়েকদিন থেকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সে মৌলভীবাজার আমার অফিসে এসে দেখা করতে চাইলে আমি তাকে কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলি।

ডিআইজির দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন শেষে ওই মহিলা সামাদ নামে এক যুবককে নিয়ে আমার সঙ্গে তার সমস্যার কথা বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে সামাদ আমার হাতে একটি খাম দিলে সেটি খুলে দুশ টাকার দুই বান্ডিল নোট দেখতে পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে তাদের টাকাসহ আটক করাই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo