৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৫:১০

এক হাজার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ, ২০ কোটি আয়ের সম্ভাবনা

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালি ইউনিয়নের কৈবর্তখালি গ্রাম এখন সূর্যমুখীর হাসিতে ভরপুর। যেখানে একসময় ছিল শুধুই ধানক্ষেত, সেখানে আজ জন্ম নিয়েছে কৃষকের নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির এই অপূর্ব সৌন্দর্য আর কৃষকের স্বপ্ন মিলেমিশে কৈবর্তখালি গ্রামটি এখন যেন এক জীবন্ত উৎসবের আঙিনা।

এ দৃশ্য পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালি ইউনিয়নের কৈবর্তখালি গ্রামের। হলুদের সমারোহে সাজানো এই মাঠ যেন প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাস। সূর্যমুখী চাষে কৃষকের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামটির সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় এবং জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন সূর্যমুখীর এই মাঠে।

সূর্যমুখীর এমন বিস্তীর্ণ চাষ শুধু সদর উপজেলায় নয়, বরং জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও করা হয়েছে। একসময় যেখানে ধান কিংবা অন্যান্য ফসল ছিল প্রধান, সেখানে এখন জায়গা করে নিচ্ছে সূর্যমুখী চাষ। কম খরচ, কম শ্রম এবং লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই চাষে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এবারে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২ থেকে আড়াই টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

কৃষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত সরকারি প্রণোদনা, কার্যকর সহায়তা এবং বিনা সুদে ঋণ পেলে এই সম্ভাবনাময় চাষে স্থানীয় কৃষকেরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন। এছাড়া কৃষি কার্ড পেলে চাষাবাদে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে বিকেল হলেই কৈবর্তখালি গ্রামের এই সূর্যমুখী ক্ষেত পরিণত হয় দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ঘুরতে আসেন, ছবি তোলেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। স্থানীয়দের মতে, এই ক্ষেতটি এখন এলাকার একটি ছোট পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সূর্যমুখী চাষি খোকন হোসেন বলেন, আমরা প্রতিবছর শুধু ধান উৎপাদন করতাম। এ বছর প্রথমবার সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিত, তাহলে আরও ভালো হতো।

স্থানীয় আরেক চাষি মোস্তফা হাওলাদার বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছি। আগে কখনো এই চাষ করিনি। এটি অনেক লাভজনক। সরকার যদি আমাদের এলাকায় কৃষি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করত, তাহলে আরও উৎসাহ পেতাম। নিজের পরিবারের জন্য তেল রেখে বাকিটা বিক্রি করব।

অন্য চাষি রফিক উদ্দিন বলেন, সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন হয়েছে। আর কিছুদিন পর তেল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হবে। ফুল ফোটার পর অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসে, ছবি তোলে এটা দেখতে ভালো লাগে।

জেলার নেছারাবাদ উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। সূর্যমুখীর মাঠ খুব সুন্দর লাগছে। অনেক ছবি তুলেছি। পিরোজপুর শহর থেকে আসা সাব্বির হোসেন বলেন, শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও ফুল ভালোবাসে। আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। সূর্যমুখী ফুলগুলো দেখতে খুবই ভালো লাগছে।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের বীজ সরবরাহ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে। জেলায় সূর্যমুখী আবাদ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার উৎপাদন আশা করা হচ্ছে। আগামী বছর এ আবাদ আরও বাড়বে। কৈবর্তখালি এখন শুধু ফসলের মাঠ নয় প্রতিটি সূর্যমুখী ফুল যেন কৃষকের সমৃদ্ধি আর আগামীর নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo