৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৫:১০

মামা-ভাগ্নে মিলে বানালেন ‘থান্ডারবোল্ট’ মিসাইল—স্বপ্ন এখন আকাশ ছোঁয়ার

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মেধা, উদ্ভাবন আর স্বপ্নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই তরুণ—প্রীতম পাল ও সুজন চন্দ্র পাল। গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের এই মামা-ভাগ্নে জুটি নিজেদের সীমিত সামর্থ্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের একটি মিসাইল ও রকেট প্রযুক্তি, যা ইতোমধ্যেই স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রীতম পাল কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী এবং সুজন চন্দ্র পাল পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রতি তাদের গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বড় কিছু করার স্বপ্ন, যা একসময় বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে।

২০২৫ সালে তারা নিজেদের টিফিনের টাকা সঞ্চয় করে এবং পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। টানা ৬ থেকে ৭ মাসের নিরলস পরিশ্রম, গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তারা ‘থান্ডারবোল্ট’ মিসাইল ও রকেটের একটি কার্যকর মডেল তৈরি করতে সক্ষম হন।

উদ্ভাবকদের দাবি অনুযায়ী, তাদের তৈরি এই প্রযুক্তি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এবং ৫ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত সরকারি অনুমোদন না থাকায় তারা এর কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা বা উড্ডয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে।

এটি তাদের প্রথম সাফল্য নয়, এর আগেও তারা রোবটিক্স ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনে অংশ নিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

তাদের এই উদ্যোগে পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ দিকনির্দেশনা, কারিগরি সহায়তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই দুই তরুণ ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা হলে তা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নেই নয়, বরং একটি আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রীতম ও সুজনের স্বপ্ন এখন একটাই- দেশীয় প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা। তাদের এই অদম্য প্রচেষ্টা ও উদ্ভাবনী শক্তি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও সহায়তা পেলে বাংলাদেশের তরুণরাই হতে পারে আগামী দিনের পরিবর্তনের চালিকাশক্তি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo