

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশাল নগরীতে সাবেক কাউন্সিলরের কার্যালয় জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদমারী বান্দ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির পরিচয়ে শাহাদাত হোসেন তোতা, মো কামরুজ্জামান নান্না, আকন সোহেল, খান অভি ও হিরনসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে অফিসটির সামনে উপস্থিত হয়ে সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। পরে পুরোনো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে কার্যালয়টি দখলে নেয় তারা।
এরপর সেটিকে বিএনপির ১০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। সাবেক দুইবারের কাউন্সিলর এটিএম শহীদুল্লাহ কবীর জানান, প্রায় ১৭–১৮ বছর আগে নিয়ম অনুযায়ী জেলা পরিষদ থেকে জায়গাটি লিজ নিয়ে তিনি কাউন্সিলর কার্যালয়ের অফিস স্থাপন করেন এবং সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক সরকারের পতনের পরও অফিসটি অক্ষত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বিএনপির নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত কামরুজ্জামান নান্না ও তার সহযোগীরা দাবি করেন, জায়গাটি প্রথম থেকেই বিএনপির একটি অফিস ছিল এবং দখলের বিষয়টি মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি এটি সত্যিই বিএনপির অফিস হয়ে থাকে, তাহলে এত বছর পর, বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনার বহুদিন পরে হঠাৎ করে দখল নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। তার ভাষায়, এটি সর্বপ্রথম বিএনপির অফিস ছিল। যারা দখলের অভিযোগ তুলছেন, তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা, সেটিও দেখা প্রয়োজন।
তবে ৫ আগস্টের অনেক পরে কেন এই দখলের ঘটনা ঘটলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল কখনো দখলদারিত্বকে সমর্থন করে না। আমরা এ বিষয়ে একমত।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।