বরিশালে মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৯, ২০২৫, ২২:৪৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

হুমায়ুন কবির রোকনঃ

বরিশালে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি বেশি।

এমনকি এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে দশমিক ৫ ডিগ্রি বেশি, অর্থাৎ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বরিশালে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা যখন ৩৬ থেকে ৩৮ এর ভেতরে হয়, তখন সেটাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। বরিশালের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিন মৃদু থেকে মাঝারি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে দু এক জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মৃদু তাপপ্রবাহে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অস্বস্তিতে পড়েছেন সকল শ্রেণির মানুষ।

ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করা এখন অনেকটাই কষ্টসাধ্য। তবুও পেটের দায়ে শ্রমজীবী মানুষ ছুটছেন কর্মে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না ফলে নগরীর রিক্সা চালকদের পেটের দায়ে হাঁসফাঁস অবস্থা।

রিক্সাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রোজা থেকে সারাদিন রিক্সা চালাই। রাস্তা-ঘাটে যানজট থাকে। এত গরম আর রোদ সহ্য করতে পারি না। এহন যাত্রীও কম পাই। সাড়াদিনে ২০০ টাকা কমাই করতে কষ্ট হইয়া যায়।

ভ্রাম্যমাণ মুড়ি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, এই মুড়ি বিক্রি করে ইনকাম করি। একদিন বিক্রি বন্ধ করলে না খাইয়া থাকা লাগবে। এই বয়সে এত গরম, রোদ সহ্য করতে পারি না। তাই মুড়ি বিক্রি করতে বের হতে পারি না। খারাপ সময় যাচ্ছে।

এদিকে ভোলা প্রতিবেদক জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নে কালবৈশাখী আঘাত হানে। প্রায় আধা ঘণ্টা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। আরও কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়। এতে জেলেদের ৫০টি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

এর মধ্যে ৯ বছরের এক শিশু নৌকার ইঞ্জিনের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝড়ে ইলিশার মাছঘাট, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাট এলাকার ১৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজাপুর ইউনিয়নের জোড়খাল এলাকার জেলে আবুল কালাম (৫০) জানান, মেঘনা নদীতে মাছ ধরে ফিরে আসার সময় ঝড়ে তাঁর নৌকা উল্টে যায়, তখন তাঁর ৩০ হাজার টাকার জাল ভেসে গেছে। তাঁরা ভাসতে ভাসতে নদীতীরে আসেন। তীর থেকে অন্য নৌকার সাহায্যে নৌকা উদ্ধার করেন। তবে জাল পাননি।

একই এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে সোনাই মাঝির (২৫) নৌকা-জাল সব ডুবে গেছে। এতে তাঁর ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই ইউনিয়নের কন্দ্রকপুর এলাকার আবদুস শহীদ বেপারীর (৪৫) জাল-নৌকা ডুবে গেছে। ঝড়ে ব্লকের সঙ্গে পিটিয়ে ফারুক মাঝির (২৬) ১ লাখ ২০ হাজার টাকার নৌকা ভেঙে গুঁড়া হয়েছে বলে জানান।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজাপুর এলাকার ২০টি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জেলে।

রাজাপুর ইউনিয়নের জোড়খাল এলাকার বাসিন্দা বেল্লাল সরদারের সঙ্গে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে শিপন (৯)। ঝড়ে নৌকার ইঞ্জিনের ওপর পড়ে শিপন গুরুতর আহত হয়েছে।

তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেল্লাল সরদার মুঠোফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। সাড়ে চারটার দিকে ঝড় শুরু হয়।

তীব্র বাতাসে শিপন নৌকার ইঞ্জিনের মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে। তার পেটে লোহা ঢুকে যায়। তাকে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

ইলিশা ইউনিয়নের চডারমাথা মাছঘাট, বিশ্বরোডের মাথা ও তালতলী মাছঘাট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, নদী তীরের দোকানঘর, নৌকা ও স্পিডবোট দুমড়েমুচড়ে ভেঙে পড়ে আছে। এমন একটি নৌকার মালিক ইলিশা ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামের জাফর মাঝি (৪১) বলেন, তাঁর প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঝড়ের কবলে পড়ে সুজন মাঝির যাত্রীবাহী স্পিডবোট ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেছে। এ স্পিডবোট ঝড়ের কবল থেকে বাঁচাতে সুজনের হাত ভেঙে গেছে। ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় ব্লক বাঁধের ওপর তাঁর স্পিডবোট ভেঙে পড়ে আছে।

তিনি ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া মঞ্জু মিজির একটি স্পিডবোট ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইলিশা ইউনিয়নের ৩০টি নৌকা ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেছে। অনেকে নৌকা বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। অনেকের জাল-নৌকা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত জেলে নৌকার তালিকা করছেন। তবে সরকার আহত জেলেদের সাহায্য করলেও ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার জন্য কোনো সাহায্য দেবে না।

জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের তাঁরা ত্রাণ তহবিল থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এ জন্য তালিকা করতে বলা হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।