জাল সনদে এমপির স্ত্রীকে নিয়োগ, কলেজ অধ্যক্ষ কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২৫, ২৩:০৪ অপরাহ্ণ
পিরোজপুর প্রতিবেদক ॥
পিরোজপুরে জাল সনদের মাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের স্ত্রীকে কলেজে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় এক কলেজ অধ্যক্ষকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন নাজিরপুর উপজেলার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদার। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পারভীন ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর জাল শিক্ষাগত সনদের মাধ্যমে কলেজটিতে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজে ২০১৩ সালে পাস কোর্স চালু হয় এবং ২০১৮ সালে এটি সরকারিকরণ করা হয়।
ওই সময় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন সাবেক এমপি আউয়াল এবং লায়লা পারভীন ছিলেন দাতা সদস্য। ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বামীর প্রভাব এবং অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদের সহযোগিতায় কোনো বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদের মাধ্যমে তিনি নিয়োগ পান।
পরে ওই প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ৮ আগস্ট ২০১৮ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত নাজিরপুর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে সরকারি বেতন বাবদ ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ টাকা উত্তোলন করেন, যা আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে পড়ে।
এই ঘটনায় দুদকের পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় লায়লা পারভীন, তার স্বামী একেএমএ আউয়াল এবং অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারকে আসামি করা হয়।
অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদার হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তিনি জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।