খালেদা জিয়া এই রক্তস্রোত যেন বৃথা না যায়, ঐক্য বজায় রাখতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০২৫, ২৩:১৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন ডেস্ক
যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে এই রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারা যেন বৃথা না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐক্য বজায় রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক শহীদ পরিবারের সম্মানে এ আলোচনা সভা করে বিএনপি। লন্ডন থেকে আলোচনা সভা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
খালেদা জিয়া বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গ্রেফতার, গুম-খুন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে।
তিনি বলেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যারা শিকার হয়েছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার নতুন যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা আমাদের দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।
এসময় সবাইকে বাংলাদেশ নির্মাণের শহীদ জিয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বিকেল ৩টায় কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশ করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
তারেক রহমান
সংখ্যানুপাতিক ভোট ঐক্যে বিভক্তি ও সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পারে
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান/ছবি বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে নেওয়া
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থায় দেশে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তি ও সরকারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন আদৌ উপযোগী কি না, সবাইকে তা ভেবে দেখতে বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন প্রস্তাবের আড়ালে পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অজান্তে পতিত স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, তাও ভেবে দেখতে হবে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় দেশে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তি ও সরকার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠতে পারে কি না, তা গুরুত্বসহকারে সব রাজনৈতিক দলকে ভেবে দেখা দরকার।
চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, একটি ইস্যুকে সঙ্গে নিয়ে আরেকটি ইস্যুকে শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ না করাই মুক্তিকামী জনগণের চাওয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে রাজনৈতিক দলগুলো চিন্তাভাবনা করেই প্রস্তাব দিচ্ছে। সবাই জনগণের কথা চিন্তা করেই উত্তম প্রস্তাব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তবে সব প্রস্তাব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উত্তম কি না সেটি বিবেচনা করা দরকার। কোনো কোনো রাজনীতির দল সংখ্যানুপাতি পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। বিশ্বের কোন কোন দেশে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি রয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় ও ভৌগোলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ পদ্ধতি কতটা উপযোগী তা সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর ধরে রাখতে হলে এবং দেশকে তাঁবেদারমুক্ত রাখতে হলে জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিদিন নিত্যনতুন কিছু সামনে নিয়ে এলে ষড়যন্ত্রকারীরা আবারও সুযোগ পাবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে প্রতিদিন জনগণের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জনগণের সমস্যার কথা সরকারের কাছে পৌঁছানোর কোনো মাধ্যম নেই।
‘সংস্কার ইস্যুতে সরকারকে ব্যস্ত রাখতে পারলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখা যাবে’-এমন ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।