

অনলাইন ডেক্সঃ
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলো বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। ২৬৮ আসনে দলীয় প্রার্থীদের এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে দলটি।
নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে রাজধানীর পুরানা পল্টনে শুক্রবার প্রেস ব্রিফিং করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির হয়ে এদিন কথা বলেন যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

আগের দিনই বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের ১০টি দলের মধ্যে আসন বন্টনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই ওই জোটে ছিল ইসলামী আন্দোলন। মূলত নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দলটির সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।শেষ সময় পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে ওই জোটে রাখার জোর চেষ্টা ছিল। সে প্রেক্ষাপটে জামায়াতের জোটের নামও দেওয়া হয় ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।
কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন জামায়াত জোট ছেড়ে ভোটে একলা চলার নীতি ঘোষণা করল।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ওয়ান বক্স পলিসির মাধ্যমে ইসলামপন্থি শক্তি এক করার যে চেষ্টা ছিল, সেটি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেই নিজেদের মতো নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
“২৭০ আসনে আমাদের মনোননয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল, দুইটি বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ ২৬৮ আসনেই ইসলামী আন্দোলন নির্বাচন করবে। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবে না,” বলেন মি. রহমান।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাকি ৩২ আসনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর অংশ নেওয়া যোগ্য প্রার্থীকে নিজেদের সমর্থন দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।
নির্বাচন হবে কি না সেটি নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
দলটির এই নেতা বলছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে জামায়াতের আমির জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
“নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গেই সমঝোতা করে এসেছেন, এক্ষেত্রে একটি পাতানো নির্বাচন হবে কিনা সেই শঙ্কাও তৈরি হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন, “আমাদের সঙ্গে ঐক্য করে তলে তলে অন্য কিছু হচ্ছে কি না” এমন সন্দেহও রয়েছে। এছাড়া ইসলামপন্থি ওয়ান বক্স পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভিন্ন চেষ্টা শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মি. রহমান।
বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী তাদের মৌলিক স্লোগান থেকে সরে, ক্ষমতাকেই একমাত্র মুখ্য মনে করছে।
“প্রচলিত আইন শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে, বৈষম্য তৈরি করেছে। এই আইন পরিবর্তন করে ইসলামের আইন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য,” বলেন তিনি।